জেনেনিন ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি কি? (What is Facebook Marketing Strategy)

একটি সফল ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি (Facebook Marketing Strategy)  বা ফেসবুক মার্কেটিং এর কৌশল প্রণয়ন হচ্ছে - অনলাইন মার্কেটিং এ সফল হবার সবচাইতে বড় হাতিয়ার যা আপনার ব্যবসায়ে বিনিয়োগের বিপরীতে ভালো রিটার্ণ পেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Facebook Marketing Strategy

আজকের দিনে ছোট বড় সব ধরণের ব্যবসায় সফলতার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং এর ভূমিকা অপরিসীম। খুব কমই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখতে পাবেন যাদের ব্যবসা সংক্রান্ত একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ বা একটি গুরুপ নেই।

ফেসবুকের বর্তমানে (২০২২) ব্যবহারকারির সংখ্যা ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, ২৫০ মিলিয়ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেসবুক ব্যবহার করছে, ৭০% ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স ৪৫ বছরের নিচে, ৯৯% মানুষ ফেসবুক মোবাইল থেকে ব্যবহার করে। সুত্র: অনলাইন ডাটা রিসার্স।

ফেসবুক মার্কেটিং কত প্রকার? 

ফেসবুক মার্কটিং মূলত: ২ প্রকার, এর একটি হলো - ফেসবুক অর্গানিক মার্কেটিং (facebook organic marketing), আরেকটি হলো - ফেসবুক পেইড মার্কেটিং(facebook paid marketing)

ফেসবুক অর্গানিক মার্কেটিং হলো যেখানে আপনার কোন টাকা পয়সা খরচ করতে হবেনা। নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে ফ্যান ফলোয়ার বাড়িয়ে কাঙ্খিত ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জণ করতে হয়। এক্ষেত্রে বড় অসুবিধা হলো-

সময় বেশী লাগে, পরিশ্রমও বেশী। পক্ষান্তরে পেইড মার্কেটিং হলো টাকা খরচ করে এ্যাড চালানো। এ পদ্ধতিতে স্বল্প-সময়ে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যায়। তবে, দুটি পদ্ধতিই কার্যকর। 

আরো পড়ুনঃ লিংকডইন কি? লিংকডইন এর কাজ কি? লিংকডইন ব্যবহারের নিয়ম – What is LinkedIn

ফেসবুক মাকেটিং কিভাবে শুরু করা যায় (How to Start Facebook Marketing)?

আমরা সবাই জানি, ফেসবুক মার্কেটিং করা হয় ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। আপনার একটি প্রোফাইল একাউন্ট থাকতে হবে আর ঐ প্রোফাইল এর আন্ডারে একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ থাকতে হবে।
ধরে নিতে পারেন, ফেসবুক পারশোন্যাল একাউন্ড একটি বিশাল মার্কেট বা শপিং কমপ্লেক্স, আর ফেবসুক পেজ হলো ঐ কম্লেক্সে একটি সুন্দর সাজানো গোছানে দোকান।

তাই, আপনার অবশ্যই একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ থাকতে হবে। পেজ ছাড়া কিন্তু  আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন মার্কেটিং করতে পারবেন না। 

আমার এ লেখার ফোকাস যেহেতু ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি (How do I create a good Facebook marketing strategy?) নিয়ে তাই, ফেসবুক বিজনেস পেজ কিভাবে, বানাতে হয়, মারকেটিং করতে হয় এ নিয়ে আর বেশী কিছু অবতারণা না করাই করবোনা।

মূল বিষয়ে ফিরে আসি...

ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি (Strategy for Facebook Marketing)

আসলে ফেসবুক মারকেটিং হচ্ছে জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমটি ব্যবহার করে নিজের বা কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ক্রেতাদের দৃষ্ঠি আকর্শন করা, সোজা করে বলতে গেলে সেল জেনারেট করে প্রফিট বাড়ানো। 

ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে এ কাজটি করা যায়? উত্তর হচ্ছে, এর জন্য একটি সঠিক  (Facebook Marketing Strategy for Small Business) নিদ্ধারণ করা। বিনা কৌশল বা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে দিন শেষে কাঙ্খিত রেজাল্ট আসবেনা, আপনার সময়, শ্রম ও বাজেট সবকিছুই বেস্তে যেতে পারে।

একটি সঠিক Facebook Marketing Strategy নিদ্ধারণ এর জন্য নীচে দেয়া বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে;

  • গোল নিদ্ধারন করা - আপনার অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে যে, আপনি আসলে কি অর্নজন করতে চাইছেন। হতে পারে আপনি কাস্টমারস এঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে চান, হতে পারে লিড পেতে চান অথবা হতে পারে - আপনি আপনার ওয়েবসাইট ট্রাফিক জেনারেট করতে চাইছেন। 

  • পরিকল্পনা   নিদ্ধারণ - আপনার লক্ষ্য নিদ্ধারণ এর পর আপনার পরিকল্প সাজাতে হবে। যদি এভাবে বলি - আগামী ১ বছরে আপনার ফেসবুক পেজের উন্নতির জন্য আপনি যে কাজগুলো ধাপে ধাপে করবেন সেগুলো আপনার পরিকল্পনায় থাকতে হবে।

  • প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ লোকবল নিয়োজিত করা - ফেসবুকে ক্যাম্পেইন রান করতে হলে বাজেট খুবই জরুরী, সাথে ডিজিটাল মারকেটিং এ দক্ষ জনবল নিয়োজিত করতে হবে। 

  • সঠিক মার্কেটিং মেথড বেছে নেয়া- কোন   পদ্ধতিতে আপনি  মার্কেটিং শুরু করবেন সেটা আগে থেকেই নিদ্ধারণ করে নেয়া। মনে রাখবেন একেকজন একেক পদ্ধতিতে ফেসবুক মাকেটিং করে থাকেন।

  • ফলাফল এনালাইসিস করা- উপরের কাজগুলো নিয়ে কিছুদিন অন্তর অন্তর আপনার পরিশ্রমের ফলাফল কি হলো, আপনার স্ট্রেটেজি কাজ করছে কিনা তা পরখ করে দেখা। এর অনলাইনে  বিভিন্ন টুলস্ আছে যা ব্যবহার করে সহজেই জানা যাবে আপনার ফেসবুক মার্কেটিং প্রচেষ্টা কোন দিকে যাচ্ছে।

১৫ পরীক্ষিত ফেসবুক মার্কেটিং গ্রীণ স্ট্রাটেজি (15 Proven Green Strategy for Facebook Marketing)

গ্রীণ স্ট্রাটেজি আমি একারণে বলছি যে, এই পদ্ধতি বা মেথডগুলো তেমন কোন পরিবর্তন হয়না। বছরের পর বছর এই স্ট্রেটেজিগুলো কার্জকর থাকবেই।

০১. ফেসবুক পারসোন্যাল একাউন্ট আপডেট রাখা

রিসার্স করে দেখা গেছে ফেসবুক আইডিধারী লোকজন ছোট ব্যবসার জন্য তৈরী করা বিজনেস পেজ থেকে এর মালিককে বেশী প্রাধান্য দেয়। অথ্যাৎ ফেসবুক পেজকে ফলো করার থেকে এর একাউন্ট হোল্ডার এর সাথে সরাসরি কানেক্টেড থাকতে বেশী পছন্দ করে থাকেন। তাই নিজের ফেসবুক পারসোন্যাল একাউন্টে (facebook personal account) সবসময় একটি থাকতে হবে এবং সু-কৌশলে এখান থেকে কাঙ্খিত ট্রাফিক নিজের পেজে ড্রাইভ করাতে হবে।

০২. নিয়মিত পোষ্ট করে যাওয়া

ডিজিটাল মার্কেটিং এ সফলতার জন্য এটি একটি এভারগ্রীণ স্ট্রাটেজী। নিজের ব্যবসা সম্পর্কে, প্রাডাক্ট ও সার্ভিস এর গূণাগুনসমেত পোষ্ট দিয়ে যেতে হবে। অবশ্য দিনের একটি নিদির্ষ্ট সময় মেইনটেইন করে পোষ্ট পাবলিশ করতে পারলে ভালো ফলাফল আশা করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে পোষ্টের কোয়ালিটি যেন ভিজিটরের নজরকারার সামর্থ্য রাখে।

০৩. ফেসবুক পোষ্ট ভেরিয়েশন

একই খাবার যেমন প্রতিদিন খেতে ভালো লাগেনা তেমনি একই বিষয় নিয়ে পোষ্ট লিখলে ভিজিটররা বিরক্তবোধ করে। তাই পোষ্টের বিষয়বস্তুর ভেরিয়েশন  একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক সময় টেক্স লিখে পোস্ট করলেন, আবার ইমেজ পোস্ট করলেন। পরের দিন হয় একটি ভিডিও বা ইনফোগ্রাফিক পোস্ট করলেন। 

০৪. পোষ্টের সাথে আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক জুড়ে দেয়া

আপনার  ওয়েবসাইটের প্রডাক্ট পেজ বা সার্ভিস পেজ এর লিংকটা কৌশলে শেয়ার করে দিতে পারেন। এতে করে সেল বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকাংশে। 

বাকী স্ট্রেটেজিগুলো বুলেটফর্মে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হলোঃ

  • অন্যান্যদের পোষ্ট বা কন্টেট অবশ্যই আপনার পেজে শেয়ার করবেন তাতে নতুন নতুন ফলোয়ার যোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
  • আপনার বিজনেস এর সাথে সম্পর্কিত পোস্টগুলোতে আপনার মতামত তুলে ধরুন। এতে করে আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ভারী হবে নিঃসন্দেহে।
  • মানুষ মজা পায়, উপভোগ করে - ফানি কন্টেট শেয়ার করলে আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজটি খুব তাড়াতাড়ি গ্রো করবে। 
  • বিভিন্ন ইভেন্টের পোস্ট শেয়ার করুন যদি সেটা আপনার ইভেন্ট নাও হয়। মানুষ বিভিন্ন ইভেন্টের খবর পেতে আগ্রহী থাকে।
  • অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কদিন, টাম্বার ইত্যাদিতে আপনার পেজের লিঙ্ক প্রোফাইল ডেসক্রিপসনে বসাতে ভূল করবেন না। 
  • ভিজিটরদের সাথে এঙ্গেজ থাকুন; ভিজিটররা কিছু জানতে চাইলে তড়িৎ উত্তর দিয়ে দিবেন, এতে করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক বড় হতে থাকবে।
  • মাঝে মাঝে আপনার প্রোডাক্ট বা সাভির্সের স্পেশাল অফার, ডিসকাউন্ট অফার দিতে পারেন। এতে করে Facebook Flower বাড়বে অনেকাংশে।
  • স্টোরফ্রন্ট এ্যাড - আপনার হয়তো একটি ফিজিক্যাল শপ আছে, যেমন অনেক বিজনেস এরই থাকে। আপনার স্টোরফ্রন্ট ব্যানারে আপনার বিজনেস পেজ এর লিংক দিয়ে কাস্টমারদের এটি ফলো ফলো করতে অনুরোধ জানাতে পারেন। জাস্ট লাইক "Follow us on Facebook"
    follow us on facebook
  • ১৩. ফেসবুক পেইড মার্কেটিং (Facebook Paid Marketing)
ফেসবুক পেইড মার্টিং হলো ইন্সট্যান্ট কিছু কাস্টমার পাওয়া বা ব্র্যান্ড সম্পর্কে কাস্টমারদের জানান দেয়া  (Brand Awareness)। মাঝে মধ্যে আপনার পেজে পোষ্টকৃত প্রডাক্টস এর দ্রুত সেল জেনারেট করতে চাইলে অথবা আপনার ফেসবুক ফ্যান পেজটি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকে তবে এর ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য ফেসবুক এ্যাডস্ রান করতে পারেন। এ পদ্ধতিকে ফেসবুক বুস্টও বলা হয়ে থাকে (Facebook Ads Boost)। তবে এর জন্য আপনার বাজেট খরচ হবে। উপরে ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি নিদ্ধাণের সময় বাজেট থাকতে হবে বলেছিলাম। 
  • ১৪. ফেসবুক মার্কেট প্লেস ব্যবহার করা। এখানে আপনি নি:খরচে আপনার পণ্যের এ্যাড দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজের প্রয়োজন হবেনা। 
  • ১৫. ওয়েবসাইটে লিঙ্ক শেয়ার করা। আপনার যদি ওয়েবপেজ থেকে থাকে সেখানে ভিজিটরদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেন - Follow us on facebook or visit our facebook page or like our facebook page ইত্যাদি বলে।

উপসংহারে বলবো, যদি ফেসবুক মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার পণ্য বা সেবা গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে চান, যদি ব্র্যান্ড এওয়ারনেস গ্রো করতে চান, যদি সেল বা লীড জেনারেট করতে চান তবে, সঠিক ফেসবুক মার্কেটিং স্ট্রেটেজি (Facebook Marketing Strategy) এ্যাপ্লাই করার কোন বিকল্প নেই। পোষ্ট হলো ফেসবুক মার্কেটিং এর প্র্যাণ, তাই সবকিছুর উর্ধে ধারাবাহিক কোয়ালিটিসম্পন্ন পোষ্ট করে যেতে হবে। 

আপনার কোন পরামর্শ থাকলে শেয়ার করতে পারেন কমেন্ট এর মাধ্যমে। 
KR RAHMAN

Blogger, market research, freelancing

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন