আজ আমার নিবন্ধের বিষয় “দাদ বা দাউদ কি? দাউদ কেন হয়? দাউদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা।” দাদ বা দাউদ, যেভাবেই বলি- এটি একটি পরিচিত চর্মরোগ। আমাদের দেশসহ পৃথিবীর সবদেশের মানুষের শরীরেই রোগটি রেখা যায়।
ইংরেজি ভাষায় এটিকে Ringworm বা Dermatophytosis হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। এটি ত্বকের উপর একটি ছত্রাক সংক্রমণ ব্যাধি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এটিকে টিনিয়া নামক একটি ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করেন।
দাউদ কেন হয় (Why Ringworm Comes)
দাউদ ছড়ানোর জন্য প্রথমেই দায়ী করা হয় – ভেঁজা ও স্যাঁতস্যাতে আদ্র জায়গাকে যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও তাপের কমতি রয়েছে। অপরিষ্কার কাপড়চোপর পরিধান, আক্রান্ত ব্যাক্তির জামা-কাপড় ব্যাবহার করলে, পুরণো মোজা না ধুঁয়ে পরলে দাদের সংক্রমণ হতে পারে।
এছাড়া, আরো কিছু বিষয় আছে যেমন; যাদের প্রচূর ঘাম হয়, এবং শরীরে যাদের রোগ প্রতিরোধ কম তাদের এই ধরণের ছত্রাক ইনফেকশন হতে পারে।
দাউদ এর লক্ষণ (Ringworm Symptoms)
- মানবদেহের উপরেভাগে গোল গোল ক্ষত তৈরী হয়, অনেক সময় লালচে দেখায়।
- আক্রান্ত জায়গাগুলো আস্তে
আস্তে বড় হয়, ধীরে ধীরে ভেতরের অংশগুলো শুকিয়ে নতুন নতুন জায়গায় সংক্রমণ হতে থাকে।
- কখনো পানি জমে ফুসকা পরে,
পুঁজ হয়।
- আক্রান্ত স্থানগুলো শুকনো
খসখসে হয়ে যায়, এবং চুলকায়।
- প্রায়ই দেখা যায় অনেকদিনের
পুরনো আক্রান্ত জায়গাগুলো কালো হয়ে যায়।
এসব কন্ডিশন দেখলে মনে করতে হবে শরীরে দাউদ এর সংক্রমণ হয়েছে।
দাউদ এর ছবি
![]() |
| শরীরে ছোট আকৃতির দাউদ |
![]() |
| শরীরে ছড়িয়ে পড়া দাউদ |
দাউদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা (Ringworm Home Treatment)
সাধারণত: দাউদ হলে আমরা ঘরের কাছে কোন ঔষদের দোকান থেকে মলম বা ঔষধ কিনে খাই। এতে দাউদ কিন্তু পুরোপুরি সাড়েনা, কিছুদিন অদৃশ্য হয়ে গেলেও ঠিকই আবার ফিরে আসে।
নীচে কয়েকটি ঘরোয়া রেমিডি শেয়ার করা হলো যাতে করে সহজেই আপনি এ বিরক্তিকর রোগটি হতে রেহাই পেতে পারেন। দাউদের ঘরোয়া চিকিৎসার সুবিধা হলো - চিকিৎসার এসব উপাদান আপনার হাতের কাছেই থাকে, স্বল্প খরচ আর সহজ ব্যবহার।
নিম পাতা বাটা (Azadirachta Indica)
নিম পাতার ঔষধি গুণ বলে শেষ করা যাবেনা। বাংলাদেশে সরকারীভাবে গত কয়েক বছর ধরে নিম গাছ লগানো হচ্ছে। সবুজ এই পাতাটি যেকোন ধরণের জীবানু ধ্বংশ করতে বেশ পারদর্শী।
নিম পাতা বেটে দাউদ আক্রান্ত জায়গাগুলোতে যদি লাগাতে পারেন এবং কষ্ট করে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারেন তা হলে এই বিরক্তিকর চর্মরোগটি হতে রেহাই পেতে পারেন।
রসুন (Allium Sativum)
রসুন - ফাংগাল ইনফেকশন এর বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকর। নিমপাতার মতোই রসুন এর রয়েছে নানারকম ঔষধি গুণ। প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোয়া রসুন বাটা দাউদের ক্ষতস্থানগুলোতে লাগাতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
হলুদ (Curcuma Longa)
এ্যালোভেরা (Aloevera Benefits)
এ্যালোভেরা যে কোন সংক্রমণের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করতে পারে। এর এ্যান্টিব্যাকটোরিয়াল ও এ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাগুন এর ঔষধ হিসেবে ব্যবহার এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। চুলের যত্ন, ত্বকের যত্ন সবকিছুতেই এ্যালোভেরা ব্যবহার হয়।
এ্যালোভেরার জেল দাউদে আক্রান্ত স্থানগুলোতে প্রত্যাহ লাগাতে পারলে দাউদ হতে উপশম পাওয়া যায়।
দাউদের অন্যান্য চিকিৎসা (Ringworm Treatment)
দাউদের এন্টিবায়োটিক
দাউদের সাবান
ডাক্তাররা কিটোকোনাজোল সাবানের সাথে লুলিকোনাজোল সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
দাউদ এর ক্রিম
দাউদ নিয়ে যদি আপনি কোন ডাক্তার বা ডিসপেনশারীতে যান, আর যদি কিছু নাও দেয়, একটি ক্রিম অন্তত দিবে, এটা কমন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন ক্রিম ভালো? সব কোম্পানীই তাদেরটা ভালো বলে চালিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ক্রিমে সবসময় দাউদ একেবারে চলে যায়না্ প্রয়োজন পড়ে অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে চলা।
পেভিসন ক্রিমটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। Gacogema নামে আরেকটি ক্রিম বাজারে পাওয়া যায়-সেটিও ভালো্।
শেষকথা,
প্রত্যাহ শরীর পরিষ্কার রাখা, পরিষ্কার কাপড়চোপড় পরিধান ও ভিটাযুক্ত খাবার দাবার গ্রহণ দাউদ এর মত বিরক্তিকর স্কিন ডিজেস হতে রক্ষা করতে পারে।


