ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম
fojorer-dui-rakat-foroj-namaz-porar-niom
এই অধ্যয়ে আমরা শিখবো কিভাবে ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়তে হয়। ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য ওয়াক্তের ফরজ নামাজের নিয়মসহ সুন্নত, নফল ইত্যাদি নামাজগুলো আদায়ের নিয়মগুলোও আলোচনা করা হবে।
![]() |
| ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম - namaj porar niom |
একটি বর্ণনায় আসছে, রসুল (সা.) এর জীবনের শেষ মূহূর্তে তার ঠোট দুটো নড়তে ছিলো, তখনও তিনি বলতেছিলেন “আস্সালাহ, আস্সালাহ”- এ থেকে বুঝা যায় নামাজ একজন মুসলমানের জন্য কতটা গরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনকে নির্লজ্জ্ব ও অপসন্দনীয় কাজসমূহ হতে বিরত রাখে। (আনকাবুত ২৯/৪৫)।
নামাজ যেহেতু ব্যাপক আলোচনার বিষয়, তাই ছোট করে আমরা আজ জানবো ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় সম্পর্কে।
চলুন, সর্বপ্রথম যেনে নেই দিনে মোট নামাজের মধ্যে ফরজ নামাজ কয় রাকাত?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো - দিনে পাঁচওয়াক্ত নামাজের মধ্যে মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ।
মুসলমানগণ দিনে মোট পাঁওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। এই পাঁচওয়াক্ত নামাজের মধ্যে রয়েছে; ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মোয়াক্কাদা যা অবশ্যই পালনীয়। এছাড়াও অনেক প্রকার নামাজ রয়েছে যা পড়া ভালো, না পড়লে গুণাহ হবেনা।
এবার দেখবো - দিনের কোন্ ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ - ফরজ নামাজ হিসেবে পড়তে হয়।
১. ফজরঃ ফজর এর নামাজ মোট ০৪ রাকাত, তার মধ্যে ২ রাকাত ফরজ।
২. যোহরঃ যোহরের মোট নামাজ ১০ রাকাত, তার মধ্যে ৪ রাকাত ফরজ।
৩. আসরঃ আসরের মোট নামাজ ৪ রাকাত, তার মধ্যে ৪ রাকাতই ফরজ।
৪. মাগরিবঃ মাগরিবের নামাজ মোট ৫ রাকাত, তার মধ্যে ৩ রাকাত ফরজ।
৫. এশাঃ এশার নামাজ মোট ৯ রাকাত, তার মধ্যে ৪ রাকাত ফরজ।
এবার আসি, ওয়াক্ত ধরে ফরজ নামাজ পড়ার নিয়মঃ এই পর্বে আমরা শিখবো - ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ম
মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে দুই রাকাত ফরজ নামাজ শুধু ফজরের ওয়াক্তেই পড়তে হয়। উপরেই বলেছি, ফজরের মোট ৪ রাকাত নামাজের মধ্যে ২ রাকাত সুন্নত ও ২ রাকাত ফরজ।
** ফজরের ফরজ অংশ ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সাথে আদায় করতে হয়, আবার কোন কারণে জামাত ধরতে না পারলে একা একা পড়ে নিতে হয়, তবে জামায়াতের সাথে ফরজ নামাজ আদায় করার ফজিলত অনেক অনেক বেশী।
** ফজর নামাজের সময়ঃ সুবেহ্সাদেক হতে শুরু করে সূর্যদয় পর্যন্ত।
এখানে উল্লেখ্য যে, ফজরের সুন্নত ও ফরজ নামাজ আদায় করার নিয়ম প্রায় একই। শুধু নিয়তে কিছুটা পরিবর্তন আছে।
১. প্রথমে অজু করে জায়নামাজে দাড়াতে হবে।
২. সাথে এই দোয়াটি পরতে হবে - “ইন্নি উয়াজ্জাহতু উয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাতারাসসামাওয়াতি উয়াল আরদ্বি হানিফা উয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন” * (দোয়াটি যে পড়তেই হবে এমনটি না, যারা না পারেন তারা না পড়লেও চলবে)।
৩. নিয়ত করতে হবেঃ
৩.১। এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে ইমামের সাথে হলে - “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহিতায়ালা, রাকাতাই সালাতি ফাজরি ফারদুল্লাহি তায়ালা, ইকতা দাইতু বিহাজাল ইমাম”
৩.২। একা পড়তে গেলে নিয়ত হবে “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহিতায়ালা রাকাতাই সালাতি ফাজরি ফারদুল্লাহি তায়ালা, মুতাহাজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার ”
৩.৩। বাংলায় নিয়ত করতে পারেন- কোন সমস্যা নাই। “আমি ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ কেবলামুখী হইয়া আদায় করছি, আল্লাহু আকবার” আর যদি ইমামের সাথে পড়েন তবে, “কেবলামুখী হইয়া এই ইমামের সাথে আদায় করছি” কথাটুকু যোগ করতে হবে।
** আল্লাহ সমস্ত প্রাণীকুলের ভাষা বোঝেন, শুধু তাই নয়, মানুষসহ সকল প্রাণীকূলের মনের ভাষা ও অভিব্যক্তিটাও বুঝতে পারেন।
৪। তাকবীরে তাহরিমা বাধতে হবে।
৫। সানাহ্ পড়তে হবে মানে “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বিহামদিকা উতাওয়ারাকাসমুকা উতাওয়ালা জাদ্দুকা অলা ইলাহা গাইরুক”।
৬। এর পর আউযুবিল্লাহি মিনাস্সাহি তোয়ানির রাজিম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়তে হবে (শব্ধ না করে পড়তে হবে)। এরপর সুরায়ে ফাতেহা পড়তে হবে এবং একটি বড় সুরাহ (প্রথম রাকাতের জন্য) পড়তে হবে। ইমামের সাথে হলে সুরায়ে ফাতেহার পর অন্য সুরা না পড়লেও হবে। তখন শুধু ইমাম যা পড়বেন তা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে।
৭। এরপর রুকুতে যেতে হবে। পিঠ সম্পূর্ণ বাকা করে দু’হাত হাটুতে রেখে চোখের দৃষ্টি পায়ের উপরিভাগের মাঝখানে থাকবে। এরপর রুকুর দোয়া পড়তে হবে অন্তত তিনবার (সুব্হানা রব্বি আ্ল আজিম), বেজোড় সংখ্যায় বেশীবার পড়া ভালো যেমন ৫ বার, ৭বার।
![]() |
| ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম-রুকু-ruku |
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাড়ানোর সময় পড়তে হবে “সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ”, জামায়াতে পড়লে মোক্তাদিরা “রব্বানা লা কালহাম্দ” পড়বেন।
৮। এরপর সেজদায় যেতে হবে এবং পড়তে হবে - “সুবহানা রব্বি আল্ আলা”, অন্তত তিনবার , বেজোড় সংখ্যায় বেশীবার পড়া ভালো যেমন ৫ বার, ৭বার।
![]() |
| ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম-সিজদা-sijda |
৯। এর পর সোজা হয়ে দাড়িয়ে ২য় রাকাত নামাজের জন্য সুরায়ে ফাতেহার সাথে একটি ছোট সুরা মিলিয়ে পড়তে হবে যেমন সুরায়ে ফাতেহার সাথে সুরায়ে কাওসার।
** আপনি আপনার পছন্দমত সুরা মিলিয়ে পড়তে পারবেন। এরপর পুন:রায় রুকু ও সেজদা করবেন।
১০। ২য় রাকাত সেজদার পর বাম পায়ের উপর বসবেন ও ডান পা খাড়া করে রাখবেন এবং আত্ত্বাহিয়াতু, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়বেন। এরপর আস্সালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লা পড়ে সালাম ফিরাবেন ডানদিকে একবার এবং বামদিকে একবার।
![]() |
| ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম - slam ferano |
এভাবেই ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। আশাকরি, আপনার বুঝতে পেরেছেন। এখানে বলে রাখা ভালো যে, আমরা কিন্তু সবাই এসব নামাজের নিয়ম-কানুন জানি তথাপি, এমন অনেকে আছেন যারা নামাজে ধারাবাহিক করনীয়গুলো নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে থাকেন। তাদের জন্যই এই লেখাটি।
কোথাও কোন ভূল হয়ে থাকলে- কমেন্ট করে জানাবেন।



