ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায় । How Can I Prevent Diabetes Naturally

----- অধ্যাপক ডাঃ ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, বিভাগীয় প্রধান, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড  ও হরমোন রোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল 

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায়! না, বিষয়টি মোটেও আতকে ওঠার মতো নয়। ডায়াবেটিস বা ডায়াবেট্স কখনোই সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায়না কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া নিয়ম-কানুন মেনে চলার মাধ্যমে য়াবেটিস কমানো সম্ভব।

নিয়মিত হাটুন (How Much Exercise to Prevent Diabetes)

প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাটুন, সপ্তাহে অন্ততঃ ৫ দিন। আস্তে আস্তে হাটলে কিন্তু ফল হবেনা।  কিছুটা দ্রুততার সাথে হাটতে হবে যাতে শরীর থেকে ঘাম বেড় হয় বা বের হওয়ার উপক্রম হয়। মোটামোটি সপ্তাহে ১৫০মি. হাটতে পারলে আপনি আপনার ডায়াবেটিস অনেকটাই কন্ট্রোল করতে পারবেন।

how much exercise to prevent diabetes


খাদ্যভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করুন (Best Food for Diabetes Control)

যেমনটা আমরা ছোটবেলায় পড়েছি “শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রয়োজন - সুষম খাদ্য গ্রহণ।”

সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যেমন, কার্বোহাড্রেড, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস্ ওয়াটার। সুষম খাদ্য মানে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি সমৃদ্ধ খাবার। 

শর্করা জাতীয় খাবারের সহজ উৎস আমাদের চারপাশেই আছে।

সুষম খাদ্যের তালিকায় ১ নাম্বারে আছে - আমিষ জাতীয় খাবার

শর্করা জাতীয় খাবারের প্রধান কাজ হলো দেহে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাপ শক্তি উৎপাদন। আমাদের দৈনিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তির শতকরা প্রায় ৫০-৬০ ভাগ শর্করা জাতীয় খাবার থেকে পাওয়া যায়। 

শর্করা জাতীয় খাবার-মানবদেহে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি  শক্তি যোগায়। আমরা অনেকেই মনে করি, শর্করা জাতীয় খাবার দূষ্প্রাপ্য ও অনেক ব্যায়বহুল। কিন্তু এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। এ জাতীয় খাবার আমাদের হাতের নাগালেই সহজমূল্যে পাওয়া যায় যেমন চাল, গম, ভুট্টা, চিড়া, মুড়ি, চিনি, গুড়, আলু, কচুরমুখী ইত্যাদি যা নিয়মিত খেতে হবে।

Egg


সুষম খাদ্যের তালিকার ২য় নাম্বারে আছে - আমিষ জাতীয় খাবার


যেমন; মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, মটর শুঁটি, সীমের বীচি, কাঁঠালের বীচি, বিভিন্ন ধরনের বাদাম। মাছ ও মাংসের যোগান অপ্রতুল হলে সস্তায় পাওয়া সবরকম ডাল, সীমের বীচি, কুমড়ার বীচি, দেশী ফল ইত্যাদি খেলেও মাছ বা মাংসে পাওয়া আমিষের অভাব পুরণ হয়। 

সুষম খাদ্যের তালিকার ৩য় নাম্বারে আছে – স্নেহ জাতীয় খাবার

স্নেহ জাতীয় খাবার মানবদেহে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে থাকে। স্নেহ জাতীয় পদার্থ যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করে তা শর্করা জাতীয় খাবার এর উৎপাদিত শক্তির প্রায় দ্বিগুণ। 

স্নেহ জাতীয় খাদ্যের উৎস হলো ভোজ্য  তেল, ঘি, মাখন, ইত্যাদি। কিন্তু সহজলভ্য সরিষার তেল, সয়াবিন,  তিলের তেল, সূর্যমুখী তেল, চিনা বাদাম থেকে আমরা দৈনন্দিন চাহিদার স্নেহ জাতীয় খাবার পেতে পারি।

সুষম খাদ্যের তালিকার ৪র্থ নাম্বারে আছে – ভিটামিন জাতীয় খাবার

Local fruits


আমাদের শরীরকে সুঠাম ও সুস্থ রাখতে ভিটামিন একটি জরুরী উপাদান। আমাদের চারপাশে আছে এ জাতীয় খাবারের সহজ প্রাপ্যতা। ভিটামিন জাতীয় খাবার মানবদেহের ক্ষয়রোধ, ত্বক সুস্থ  -সুন্দর ও শরীর সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

সবধরণের সবুজ শাক, পেঁপে, কাঁচামরিচ, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, সজনে পাতা, পালংশাক, কচু শাক, মূলাশাক ইত্যাদি যা আমরা প্রতিনিয়ত খেয়ে থাকি। কিন্তু মান ঠিক রেখে রুটিন মোতাবেক খাওয়া সবচাইতে জরুরী। টক জাতীয় ফল যেমন; আমলকি, জলপাই, পেঁয়ারা, জাম্বুরা, ঢেউয়া, আমড়া, লেবু, করমচা ইত্যাদি দেশীয় ফলমুল থেকে কাংখিত পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

সুষম খাদ্যের তালিকার  ৫ম অবস্থানে  আছে – মিনারেল বা খনিজ পদার্থ জাতীয় খাবার

বাধা কপি


মানবদেহের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন মিনারেল/খনিজ জাতীয় পদার্থের। উদাহরণস্বরুপ - ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম  স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

আমাদের চারপাশের সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, ডিম, ডাল, মাংসে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল পাওয়া যায়। তাছাড়াও ছোট মাছ, শুকনো খাবার, সুটকি মাছ, শুকনো ফল, সরষে, সবজি, শাক, কলার থোর , কাঁচকলা ইত্যাদি নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে।

সুষম খাদ্যের তালিকার  ৬ষ্ঠ অবস্থানে  আছে – পানি

”কথায় বলে জীবনের অপর নাম পানি”- বাস্তব সত্যিটাও তাই। এতে কারো কোন সন্দেহ নেই।
বয়স, ভৌগোলিক অবস্থান, শরীরের ওজন ও খাটাখাটুনির উপর ভিত্তি করে পানির চাহিদা নিরুপণ করা হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৩-৬ লিটার পানি খাওয়া দরকার। রক্ত তরল রাখা, শরীর থেকে দুষিত পদার্থ বের করে দিতে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

সুষম খাদ্য বাদ দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে ব্রেইনস্ট্রোক, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসার এর ঝুঁকি বেড় যায় বেড়ে যায় বহুগুণে।


ব্যতিক্রমঃ

যাদের ওজন বেশী মানে বিএমআই বেশী হয়, তবে তাদের ক্যালরীর পরিমাণ কিছুটা কমাতে হবে। ধরুণ; কারো যদি ওজন অনুপাতে ২০০০ ক্যালরী গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে ডাক্তাররা অন্ততঃ ৫০০ কিগ্রা. ক্যালরী কমিয়ে ১৫০০ কিগ্রা. ক্যালরী গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। সুতরাং, ওজনের সাথে সমন্বয় রেখে ক্যালরী গ্রহণ করতে হবে। এই ১৫০০ কিগ্রা. ক্যালরীর মধ্যে সুষম খাবারের কোন উপাদান কিন্তু বাদ দেয়া যাবেনা। 

যারা লো-কার্বোহাইড্রেড খাবার গ্রহণ করেন (কেটোডায়েট) তাদের কিন্তু হার্ট এটাকের সম্ভবনা ৫২%, ব্রেইনস্ট্রোক  ৪২% ও ক্যান্সার এর সম্ভাবনা ৩২ভাগ বেড়ে যায়।  

আবারে সেই পুরনো কথা – “সুষম খাদ্য শরীর গঠন করে”, এটা এখন পর্যন্ত সত্যি।

ভালো ঘুম – হতে হবে

প্রতিদিন অন্তত: ৬ ঘন্টা করে ঘুমালে দেহে স্ট্রেস হরমন অনেক কমে যায়।  স্ট্রেস হরমন বেড়ে গেল ডায়াবেটিস বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

উপরে আলোচিত এই তিনটি অভ্যাস যদি যথাযথভাবে পালন করা যায়, তবে ডায়াবেটিস এর প্রাথমিক অবস্থা কোন রকম ওষুধ সেবণ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আর যেসব খাদ্যউপাদানের কথা বলা হলো এগুলো সহজে এবং শস্তায় আমাদের দেশে পাওয়া যায়। দরকার শুধু নিয়মগুলো ধারাবাহিকভাবে পালন করে যাওয়া। 

Watch Video : how can i prevent diabetes naturally



ডায়াবেটিস কন্ট্রোল

আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। 
KR RAHMAN

Blogger, market research, freelancing

1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন